#গড়পঞ্চকোট_রাজপরিবার_আসলে_কুড়মী____বংশোদ্ভুত ______
হরপ্পা মহেঞ্জোদাড়ো সভ্যতারও আগে রাঢ় অঞ্চলে সভ্যতা গঠিত হয়ছিল।রাঢ় অঞ্চলে আমরা প্রাগৈতিহাসিক যুগের প্রস্তরযুগ যুগ থেকে বীরভানপুরের ও পান্ডুরাজার টিবির নিদর্শনও পাই।এই রাঢ় অঞ্চলেই অর্থাৎ এই ছোটনাগপুর অঞ্চলে প্রথম 54 খ্রিষ্টাব্দে এই অঞ্চলের কুড়মীদের এবং অন্যান্য জাতিদের নিয়ে কোটশীলাতে এক মহা পঞ্চায়েত হয় সেখানে এক কুড়মী পরিবারের যুবক দামোদর শাঁখোয়ারকে গনতান্ত্রিক পদ্বতিতে(যেটা কুড়মিদের পরগনাইত সিস্টেম ছিলো)সবাই মিলে রাজা ঘোষণা করে।তার নামেই দামোদর নদীর নামকরণ হয়, যার আদি নাম ছিল কৌনদিসা। এই রাজের প্রথম রাজধানী স্থাপন করা হয় #কোটশীলাতে, এরপর সেখান থেকে #গড়পঞ্চকোট নামক স্থানে রাজধানী স্থানান্তরিত করা হয়।এই গড়পঞ্চকোটই ছিলো একসময় সমগ্র ছোটনাগপূরের প্রাণকেন্দ্র।যা এখনোও গেলে পাহাড়ের ধারে এবং পাহাড়ের উপর অনেকটা এলাকাজুড়ে গঠিত হয়। এর ধ্বংসাবশেষ এখনোও দেখতে পাওয়া যায়।যা বর্তমানে পুরুলিয়া জেলার পাঞ্চেত জলাধারের সন্নিকটে অবস্থিত।বর্গী আক্রমণের পর সেখান থেকে ১৭০০ শতকে #কাশীপুর নামক স্থানে রাজধানী স্থানান্তরিত হয়। এ সম্পর্কিত সকল তথ্য পুরুলিয়া সেকাল ওকাল নামক বইয়ে এবং মানভূম গেজেট, মেদিনীপুর গেজেট প্রভৃতি কাগজে লেখা আছে। এ সম্পর্কিত সকল আসল তথ্য কোথাও নেট ঘাঁটলেও খুঁজে পাবেন না।এই ইতিহাসকে লুকানোর জন্য এখনকার নানারকম বইয়ে এই রাজাকে রাজপুত রাজা বলে উল্লেখ করা হয়েছে এবং বিভিন্ন অবিশ্বাস্য গল্প গড়ে লেখা হয়েছে।সেই গল্পের একটা গল্প হল মধ্যভারত থেকে এক রাজা পুত্রপ্রাপ্তির জন্য তীর্থ করতে যাচ্ছিলেন। রাস্তায় কোটশীলাতে রানী পুত্র সন্তান প্রসব করেন। এরপর তাদের তীর্থযাত্রায় অসুবিধা অর্থাৎ বিঘ্ন না হয় সেই কারণে তারা সেই সন্তানকে সেখানে জঙ্গলে ছেড়ে দিয়ে তীর্থ বন্ধ না করে চলতে শুরু করেন। এরপর ভাবুন যে রাজা পুত্রপ্রাপ্তির জন্য তীর্থ করতে যাচ্ছিলেন সেই রাজায় পুত্র সন্তান জন্মানোর পর তা কি করে ছেড়ে দিয়ে চলে যেতে পারেন। এরপর আবার বলা হচ্ছে সেই বাচ্চাকে জঙ্গলে সাতদিন ধরে এক গাই নিজের দুধ খাইয়ে বাঁচিয়ে রাখে। এরপর এক কুড়মী পরিবার সেই বাচ্চাকে জঙ্গল থেকে কুঁড়িয়ে নিয়ে এসে লালন পালন করে তাকে বড় করে। তারপর সে যখন বড় হয় তখন তাকে রাজা হিসাবে ঘোষণা করা হয়। একবার ভাবুন জঙ্গলে এক বাচ্চাকে কি করে এক গাই সাত দিন ধরে দুধ খাইয়ে বাঁচিয়ে রাখতে পারে। এরপর ভাবুন কেউ যদি কাউকে রাজা হিসাবে ঘোষণা করে তাহলে নিজের ছেলেকে না করে ঐ কুড়িয়ে পাওয়া ছেলেকে কেন ঘোষণা করবে। এরপর আর এক গল্প তার নাম রাখা হয় দামোদর শেখর সিং দেও।কেউ যদি কোন বাচ্চাকে কুড়িয়ে মানুষ করে তাহলে নিজের স্যারনেম দিবে সে গুষ্টি(গোত্র) শাঁখোয়ার হলে শাঁখোয়ার রাখত, কিংবা মাহাত রাখত।যে স্যারনেম তখনকার দিনের লোকেরা ভাবতে পারত না, সেই স্যারনেম তারা রাখল কি করে।কিন্তু যে ইতিহাস লেখা একবার লেখা হয়ে গেছে তা পাল্টানো যায় কি করে। তখনকার দিনের মানভূম গেজেট সাঁওতাল পরগণা গেজেট খুললেই সব দেখতে পাওয়া যাবে। এই অঞ্চলে ব্রাম্ভ্রণের আগমনের পর তারা রাজ পরিবারগুলিকে বলে তোমরা নীচু জাতির, তোমাদের উচ্চ জাতি আমরা করে দিচ্ছি। তখন হিরণ্যগর্ভা সংস্কার আয়োজনের মাধ্যমে তাদেরকে ক্ষত্রিয় করা হয়। তখন শুধু এই গড়পঞ্চকোট রাজ পরিবার নয় সেই সাথে যত এই অঞ্চলে রাজপরিবার ছিল তাদের সবাইকে সে আদিবাসী হোক কিংবা হরিজন হোক বা আরো অন্য কোন জাতির ছিল তাদের সবাইকে ক্ষত্রিয় করা হয়। সেইসময় ঝরিয়ার রাজপরিবার ছিল ঘাটোয়ার জাতির, জামতোড়ার রাজপরিবার ছিল ঐ জাতিরেই। রাঁচীর রাজ পরিবার ছিল মুণ্ডা জাতির এবং অন্যান্য রাজ পরিবার গুলিও ছিল অরাজপুত। এইসকল রাজ পরিবারগুলি ক্ষত্রিয় হওয়ার পর এক একটা অবিশ্বাসযোগ্য কাহিনী তৈরী করতে থাকে।#প্রসঙ্গত মনে রাখা প্রয়োজন রাজপুতরা হুন জাতির শাখা।আর ভারতে হুন আক্রমণ হয়েছিলো গুপ্ত শাসক স্কন্ধগুপ্তের সময়ে। আমরা সবাই জানি হুন আক্রমণ প্রতিরোধ করেছিলেন বলে স্কন্ধগুপ্তকে ভারতের রক্ষাকর্তা বলা হয়।সেটা 400 খৃস্টাব্দের পর।কিন্তু ছোটনাগপুরের পঞ্চকোট এর রাজপরিবারের রাজতন্ত্র স্থাপন 54 খৃস্টাব্দে।সুতরাং রাজপুত গল্প সম্পূর্ণ মনগড়া এবং কাল্পনিক।বাস্তবে এই গ্ৰেটার ছোটনাগপুরে যত রাজপরিবার ছিল সবাই অরাজপুত ছিল। তাই আসল ইতিহাসকে জানার চেষ্টা করুন, খোঁজার চেষ্টা করুন।
কৃতজ্ঞতা স্বীকার-- Dr Rakesh Mahato
তথ্যসূত্র ও লিখা :-Mithun Mahato
এডিটিং:-Biplab Mahata
হরপ্পা মহেঞ্জোদাড়ো সভ্যতারও আগে রাঢ় অঞ্চলে সভ্যতা গঠিত হয়ছিল।রাঢ় অঞ্চলে আমরা প্রাগৈতিহাসিক যুগের প্রস্তরযুগ যুগ থেকে বীরভানপুরের ও পান্ডুরাজার টিবির নিদর্শনও পাই।এই রাঢ় অঞ্চলেই অর্থাৎ এই ছোটনাগপুর অঞ্চলে প্রথম 54 খ্রিষ্টাব্দে এই অঞ্চলের কুড়মীদের এবং অন্যান্য জাতিদের নিয়ে কোটশীলাতে এক মহা পঞ্চায়েত হয় সেখানে এক কুড়মী পরিবারের যুবক দামোদর শাঁখোয়ারকে গনতান্ত্রিক পদ্বতিতে(যেটা কুড়মিদের পরগনাইত সিস্টেম ছিলো)সবাই মিলে রাজা ঘোষণা করে।তার নামেই দামোদর নদীর নামকরণ হয়, যার আদি নাম ছিল কৌনদিসা। এই রাজের প্রথম রাজধানী স্থাপন করা হয় #কোটশীলাতে, এরপর সেখান থেকে #গড়পঞ্চকোট নামক স্থানে রাজধানী স্থানান্তরিত করা হয়।এই গড়পঞ্চকোটই ছিলো একসময় সমগ্র ছোটনাগপূরের প্রাণকেন্দ্র।যা এখনোও গেলে পাহাড়ের ধারে এবং পাহাড়ের উপর অনেকটা এলাকাজুড়ে গঠিত হয়। এর ধ্বংসাবশেষ এখনোও দেখতে পাওয়া যায়।যা বর্তমানে পুরুলিয়া জেলার পাঞ্চেত জলাধারের সন্নিকটে অবস্থিত।বর্গী আক্রমণের পর সেখান থেকে ১৭০০ শতকে #কাশীপুর নামক স্থানে রাজধানী স্থানান্তরিত হয়। এ সম্পর্কিত সকল তথ্য পুরুলিয়া সেকাল ওকাল নামক বইয়ে এবং মানভূম গেজেট, মেদিনীপুর গেজেট প্রভৃতি কাগজে লেখা আছে। এ সম্পর্কিত সকল আসল তথ্য কোথাও নেট ঘাঁটলেও খুঁজে পাবেন না।এই ইতিহাসকে লুকানোর জন্য এখনকার নানারকম বইয়ে এই রাজাকে রাজপুত রাজা বলে উল্লেখ করা হয়েছে এবং বিভিন্ন অবিশ্বাস্য গল্প গড়ে লেখা হয়েছে।সেই গল্পের একটা গল্প হল মধ্যভারত থেকে এক রাজা পুত্রপ্রাপ্তির জন্য তীর্থ করতে যাচ্ছিলেন। রাস্তায় কোটশীলাতে রানী পুত্র সন্তান প্রসব করেন। এরপর তাদের তীর্থযাত্রায় অসুবিধা অর্থাৎ বিঘ্ন না হয় সেই কারণে তারা সেই সন্তানকে সেখানে জঙ্গলে ছেড়ে দিয়ে তীর্থ বন্ধ না করে চলতে শুরু করেন। এরপর ভাবুন যে রাজা পুত্রপ্রাপ্তির জন্য তীর্থ করতে যাচ্ছিলেন সেই রাজায় পুত্র সন্তান জন্মানোর পর তা কি করে ছেড়ে দিয়ে চলে যেতে পারেন। এরপর আবার বলা হচ্ছে সেই বাচ্চাকে জঙ্গলে সাতদিন ধরে এক গাই নিজের দুধ খাইয়ে বাঁচিয়ে রাখে। এরপর এক কুড়মী পরিবার সেই বাচ্চাকে জঙ্গল থেকে কুঁড়িয়ে নিয়ে এসে লালন পালন করে তাকে বড় করে। তারপর সে যখন বড় হয় তখন তাকে রাজা হিসাবে ঘোষণা করা হয়। একবার ভাবুন জঙ্গলে এক বাচ্চাকে কি করে এক গাই সাত দিন ধরে দুধ খাইয়ে বাঁচিয়ে রাখতে পারে। এরপর ভাবুন কেউ যদি কাউকে রাজা হিসাবে ঘোষণা করে তাহলে নিজের ছেলেকে না করে ঐ কুড়িয়ে পাওয়া ছেলেকে কেন ঘোষণা করবে। এরপর আর এক গল্প তার নাম রাখা হয় দামোদর শেখর সিং দেও।কেউ যদি কোন বাচ্চাকে কুড়িয়ে মানুষ করে তাহলে নিজের স্যারনেম দিবে সে গুষ্টি(গোত্র) শাঁখোয়ার হলে শাঁখোয়ার রাখত, কিংবা মাহাত রাখত।যে স্যারনেম তখনকার দিনের লোকেরা ভাবতে পারত না, সেই স্যারনেম তারা রাখল কি করে।কিন্তু যে ইতিহাস লেখা একবার লেখা হয়ে গেছে তা পাল্টানো যায় কি করে। তখনকার দিনের মানভূম গেজেট সাঁওতাল পরগণা গেজেট খুললেই সব দেখতে পাওয়া যাবে। এই অঞ্চলে ব্রাম্ভ্রণের আগমনের পর তারা রাজ পরিবারগুলিকে বলে তোমরা নীচু জাতির, তোমাদের উচ্চ জাতি আমরা করে দিচ্ছি। তখন হিরণ্যগর্ভা সংস্কার আয়োজনের মাধ্যমে তাদেরকে ক্ষত্রিয় করা হয়। তখন শুধু এই গড়পঞ্চকোট রাজ পরিবার নয় সেই সাথে যত এই অঞ্চলে রাজপরিবার ছিল তাদের সবাইকে সে আদিবাসী হোক কিংবা হরিজন হোক বা আরো অন্য কোন জাতির ছিল তাদের সবাইকে ক্ষত্রিয় করা হয়। সেইসময় ঝরিয়ার রাজপরিবার ছিল ঘাটোয়ার জাতির, জামতোড়ার রাজপরিবার ছিল ঐ জাতিরেই। রাঁচীর রাজ পরিবার ছিল মুণ্ডা জাতির এবং অন্যান্য রাজ পরিবার গুলিও ছিল অরাজপুত। এইসকল রাজ পরিবারগুলি ক্ষত্রিয় হওয়ার পর এক একটা অবিশ্বাসযোগ্য কাহিনী তৈরী করতে থাকে।#প্রসঙ্গত মনে রাখা প্রয়োজন রাজপুতরা হুন জাতির শাখা।আর ভারতে হুন আক্রমণ হয়েছিলো গুপ্ত শাসক স্কন্ধগুপ্তের সময়ে। আমরা সবাই জানি হুন আক্রমণ প্রতিরোধ করেছিলেন বলে স্কন্ধগুপ্তকে ভারতের রক্ষাকর্তা বলা হয়।সেটা 400 খৃস্টাব্দের পর।কিন্তু ছোটনাগপুরের পঞ্চকোট এর রাজপরিবারের রাজতন্ত্র স্থাপন 54 খৃস্টাব্দে।সুতরাং রাজপুত গল্প সম্পূর্ণ মনগড়া এবং কাল্পনিক।বাস্তবে এই গ্ৰেটার ছোটনাগপুরে যত রাজপরিবার ছিল সবাই অরাজপুত ছিল। তাই আসল ইতিহাসকে জানার চেষ্টা করুন, খোঁজার চেষ্টা করুন।
কৃতজ্ঞতা স্বীকার-- Dr Rakesh Mahato
তথ্যসূত্র ও লিখা :-Mithun Mahato
এডিটিং:-Biplab Mahata

0 Comments